Product Details & Review
R36S রেট্রো গেম কনসোলের সাথে উপভোগ করুন ২১,০০০+ ক্লাসিক গেম! এর ৩.৫ ইঞ্চি IPS স্ক্রিন এবং ৬৪জিবি স্টোরেজ আপনাকে দেবে চমৎকার গেমিং অভিজ্ঞতা।
R36S Retro Game Console রিভিউ: কম বাজেটে সেরা হ্যান্ডহেল্ড গেমিং ডিভাইস?
রেট্রো গেমিংয়ের প্রতি ভালোবাসা আমাদের অনেকেরই আছে। আর পকেটে নিয়ে ঘোরার মতো একটি ডিভাইসে যদি হাজার হাজার ক্লাসিক গেম খেলা যায়, তবে তো কথাই নেই। আজ আমরা কথা বলব FLH R36S Retro Game Console নিয়ে। ৬৪ জিবি স্টোরেজ এবং ২১,০০০ এরও বেশি প্রি-ইনস্টলড গেমের দাবি নিয়ে বাজারে আসা এই ডিভাইসটি কি আসলেই আপনার টাকা উসুল করবে নাকি এটি কেবলই একটি সস্তা প্লাস্টিকের খেলনা? চলুন বিস্তারিত জানা যাক।
ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি
R36S হ্যান্ডহেল্ড গেমিং কনসোলটি দেখতে অনেকটা ক্লাসিক গেমবয়ের মতো। এটি বেশ কমপ্যাক্ট এবং সহজেই পকেটে ফিট হয়ে যায়। তবে এর প্লাস্টিক বিল্ড কোয়ালিটি খুব একটা প্রিমিয়াম নয়। দাম অনুযায়ী এটি ঠিকঠাক, তবে হাত থেকে পড়ে গেলে ভেঙে যাওয়ার ভয় থাকে। এর ডুয়াল এনালগ স্টিক এবং ডি-প্যাড বাটনগুলোর রেসপন্স বেশ ভালো, যা আপনাকে নিখুঁত কন্ট্রোল দেবে।
ডিসপ্লে: এই প্রাইস রেঞ্জের সেরা
ডিভাইসটির সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হলো এর ৩.৫ ইঞ্চির IPS স্ক্রিন। ৬৪০x৪৮০ রেজোলিউশনের এই ডিসপ্লেটি অত্যন্ত শার্প এবং এর কালার রিপ্রোডাকশন চমৎকার। ভিউয়িং অ্যাঙ্গেলও বেশ ভালো, যা এই বাজেটের ডিভাইসে আশা করা যায় না।
গেম লাইব্রেরি এবং পারফরম্যান্স
এতে লিনাক্স (Linux) ওএস ব্যবহার করা হয়েছে। ৬৪ জিবি এসডি কার্ডে প্রায় ২১,০০০+ গেম দেওয়া আছে। গেম বয় এডভান্স (GBA), প্লেস্টেশন ১ (PS1), নিন্টেন্ডো ৬৪ (N64) এর মতো ক্লাসিক কনসোলের গেমগুলো এতে খুব সুন্দরভাবে চলে।
তবে একটি বাস্তব কথা মাথায় রাখতে হবে: যদিও এতে PSP গেম চালানোর দাবি করা হয়েছে, তবে ভারী PSP গেমগুলো (যেমন God of War) ফ্রেম ড্রপ এবং ল্যাগ ছাড়াই খেলা অসম্ভব। সাধারণ ও হালকা ওজনের PSP গেমগুলো মোটামুটি চালানো যায়।
ব্যাটারি লাইফ
এতে ৩০০০ এমএএইচ (3000mAh) ব্যাটারি রয়েছে। একবার ফুল চার্জ দিলে প্রায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা একটানা গেম খেলা সম্ভব। টাইপ-সি পোর্ট দিয়ে এটি চার্জ করা যায়।
ভালো দিক (Pros):
- অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্য: এই বাজেটে এত ফিচার পাওয়া কঠিন।
- চমৎকার ডিসপ্লে: ব্রাইট ৩.৫ ইঞ্চি আইপিএস ডিসপ্লেতে গেম খেলতে খুব ভালো লাগে।
- বিশাল গেম কালেকশন: ২১,০০০+ প্রি-লোডেড গেমের বিশাল সংগ্রহ।
- পোর্টেবিলিটি: পকেট-ফ্রেন্ডলি সাইজ হওয়ায় যেকোনো জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়।
- ডুয়াল এনালগ জয়স্টিক: কন্ট্রোলিং বেশ স্মুথ।
মন্দ দিক (Cons):
- বিল্ড কোয়ালিটি: প্লাস্টিক বডি কিছুটা সস্তা অনুভূতি দেয়।
- সীমাবদ্ধ পারফরম্যান্স: ভারী PSP এবং Dreamcast গেমগুলো ঠিকমতো চলে না।
- স্টক এসডি কার্ডের নির্ভরযোগ্যতা: সাথে দেওয়া স্টক মেমোরি কার্ডটি যেকোনো সময় ক্র্যাশ করতে পারে। একটি ভালো ব্র্যান্ডের এসডি কার্ড ব্যবহার করার পরামর্শ রইলো।
আপনার কি এটি কেনা উচিত?
আপনি যদি শৈশবের ক্লাসিক গেমগুলো (যেমন মারিও, টেকেন, পোকেমন) আবার নতুন করে উপভোগ করতে চান এবং আপনার বাজেট যদি সীমিত হয়, তবে R36S Retro Console আপনার জন্য সেরা চয়েস। এটি বাচ্চাদের জন্য যেমন একটি দারুণ উপহার হতে পারে, তেমনি রেট্রো গেমারদের জন্যও এটি একটি চমৎকার Pocket Game Player। তবে আপনি যদি হাই-এন্ড পিএসপি বা আধুনিক থ্রিডি গেম মসৃণভাবে খেলার আশা করেন, তবে আপনাকে আরও বেশি বাজেটের ডিভাইসের দিকে নজর দিতে হবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
R36S কনসোলে কি নিজের গেম যোগ করা যায়?
হ্যাঁ। এটি ওপেন-সোর্স লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমে চলার কারণে, আপনি মাইক্রোএসডি কার্ড কম্পিউটারে কানেক্ট করে ডাউনলোড করা গেম রম সংশ্লিষ্ট এমুলেটর ফোল্ডারে যোগ করতে পারবেন।
এতে কি গেম প্রোগ্রেস সেভ করা যায়?
অবশ্যই। কনসোলটি রিয়েল-টাইম সেভ (সেভ স্টেট) ও লোড সাপোর্ট করে, ফলে যেকোনো গেমের যেকোনো মুহূর্তে প্রোগ্রেস সেভ করা যায়।
এতে কি God of War PSP-এর মতো ভারী 3D গেম চলে?
না, এটি ভারী 3D PSP ও Dreamcast গেমে সমস্যায় পড়ে। ৮-বিট, ১৬-বিট ও PS1 গেম নিখুঁতভাবে চললেও, ভারী PSP টাইটেলে ফ্রেম ড্রপ ও অডিও স্টাটারিং হতে পারে।
এই হ্যান্ডহেল্ড গেমিং প্লেয়ারের ব্যাটারি লাইফ কেমন?
এতে ৩০০০mAh রিচার্জেবল ব্যাটারি আছে, যা স্ক্রিন ব্রাইটনেস ও এমুলেটেড সিস্টেমের উপর নির্ভর করে প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা একটানা গেমপ্লে দেয়।

